শীর্ষ সংবাদ

ডিসেম্বর : ১৯৭১ থেকে ২০১৬-ফকির ইলিয়াস : কবি ও সাংবাদিক।

যুক্তরাষ্ট্র বিশেষ প্রতিনিধিঃ====== সময় খুব দ্রুতই যাচ্ছে। অনেক হিসাব-নিকাশ আমাদের সামনে। ডিসেম্বর বাঙালির বিজয়ের মাস। গৌরবের মাস এই ডিসেম্বর। বাংলাদেশ ৪৫ বছর পার করে দিল। অর্জন নেই তা বলা যাবে না। কিন্তু আরো অনেক কিছুই হতে পারত। হয়নি। একটি কালো শক্তি গলা চাপা দিতে চেয়েছে এই জাতিকে বারবার। বহুবার। একটি জাতির জীবনে এমন উল্লেখযোগ্য সময় কয়েকটি মহাকাল পরই আসে। বাঙালির জন্য একটি স্বাধীন-সার্বভৌম দেশমাতৃকার জন্ম তেমনি অবিস্মরণীয় ঘটনা। ১৯৭১ থেকে ২০১৬ সময়ে তাই এর মূল্যায়ন দরকার। এই বয়সে একটি রাষ্ট্র, একটি জাতি কতটা পূর্ণতা পেতে পারে তা নিয়ে কথা চলতে পারে পক্ষে-বিপক্ষে। কিন্তু পাওয়ার ঝুড়ি যদি তুলনামলক শূন্যের কোটায় থাকে, তবে সে দুঃখবোধ হয়ে পড়ে হৃদয়বিদারক। বাংলাদেশের বেশ কিছু ক্ষেত্রে তেমনটি হয়েছে।
সাড়ে চার দশক সময়ে বাংলাদেশে প্রধান দুঃখবোধটি হচ্ছে মানুষের ন্যায্যতা ও সুশাসন। যার ফলে যে চেতনা নিয়ে রাষ্ট্রটি বিজয়মাল্য পেয়েছিল তা রোদনে পরিণত হয়েছে অনেকভাবে। একটি রাষ্ট্র কাঠামো উঠে দাঁড়ানোর আগেই তার মেরুদণ্ড ভেঙে দেয়ার চেষ্টা করা হয়েছে অত্যন্ত জঘন্যভাবে। বাংলাদেশের স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মহানুভবতার সুযোগ নিয়ে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছিল সেই পরাজিত শক্তির প্রেতাত্মারা। ১৯৭৪-এর দুর্ভিক্ষের প্রসঙ্গ যারা তোলেন এটাও তারা খুব ভালো করে জানেন পাকপন্থী একটি সনাতনী ব্যুরোক্রেসি নিয়ে বঙ্গবন্ধুর সরকার চালানো ছিল দুরূহ কাজ। সমন্বয়ের অভাব, আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের নিষ্পেষণ, দেশি বেনিয়া গোষ্ঠীর তীব্র অসহযোগিতা চুয়াত্তরের মন্বন্তরকে কাগুজে বাঘে রূপান্তরিত করে। ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে বাসন্তীকে ‘জাল’ পরিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদ শিরোনাম করা হয়, যা পরে প্রমাণিত হয়েছে। বাহাত্তর-পরবর্তী সময়ে ঘনীভূত রাজনৈতিক অস্থিরতা, সরকার বিরোধিতার নামে হঠকারী সিদ্ধান্ত পরাজিত রাজাকারদের ভাগ্য ক্রমেই খুলে দিতে থাকে। পাকপন্থী সেনা সদস্যদের সংগঠিত করে ঘটানো হয় পঁচাত্তরের নির্মম হত্যাযজ্ঞ। সপরিবারে নিহত হন জাতির জনক। এরপর কারা কীভাবে ক্ষমতায় এসেছে এবং কী করেছে, এদিকে নজর দিলেই বোঝা সহজ হবে পরাজিত রাজাকারদের প্রধান লক্ষ্য কী ছিল। পটপরিবর্তনের মাধ্যমে নানা ভেকভণিতা করে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করেন জেনারেল জিয়াউর রহমান। ক্ষমতায় টিকে থাকার প্রয়োজনে বহুদলীয় গণতন্ত্রের লেবাসে তিনি আলবদর-রাজাকারদের রাজনৈতিক পুনর্বাসন নিশ্চিত করেন। এমন হীন অপকর্ম তিনি কিছুই বাদ রাখেননি, যা তার ক্ষমতা পাকাপোক্ত করার জন্য দরকারি ছিল। সেনা অভ্যুত্থানে জিয়া নিহত হলেও তার জারি করা ফরমানের ফলে রাজাকাররা স্থায়ী আসন গেড়ে নিতে সমর্থ হয়। এরপর সামরিক জান্তাতন্ত্র চলতে থাকে ওই একই ধারাবাহিকতায়। জাতীয়তাবাদের ‘বাংলাদেশী’ সংস্করণ যা শুধু ক্ষমতা দখলের মুখ্যমন্ত্র হিসেবেই কাজে লেগেছিল, তারই দ্বিতীয় সংস্করণ প্রণয়ন করেন স্বৈরশাসক জেনারেল এরশাদ। এর পরের দশকটি বাঙালি জাতিকে কাটাতে হয়েছে স্বৈরাচার হটানোর আন্দোলনে। নূর হোসেনকে শহীদ হতে হয়েছে রাজপথে, স্বৈরাচার নিপাত যাক, গণতন্ত্র মুক্তি পাক এ ¯েøাগান বুকে-পিঠে লিখে। নানাভাবে কোণঠাসা করে রাখা হয়েছে জনগণকে। ডা. মিলনের খুনিরা মিশে গেছে, রাজনীতির কাফেলায়। সুদীর্ঘ আন্দোলন, ব্যাপক রক্তক্ষয়ের মাধ্যমে নিপাত যায় স্বৈরাচারী এরশাদ সরকার। যৌথ গণতান্ত্রিক উদ্যোগে প্রণীত হয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের রূপরেখা। ১৯৯১-এর নির্বাচনে বিএনপি ক্ষমতায় আসে। জনগণকে বলা হয়, আমরা গণতন্ত্রের পথেই এগিয়ে যাচ্ছি। ১৯৯১-৯৬ সময়কালীন সরকার বাংলাদেশে দুর্নীতি এবং মৌলবাদের গোড়াপত্তন শুরু করে। জে. জিয়ার রাজাকার পুনর্বাসন প্রকল্পের এক্সটেনশন হিসেবে জঙ্গিতন্ত্রের বীজ রোপিত হতে থাকে বাংলার নরম মাটিতে। গ্রামাঞ্চলে এরা গড়তে থাকে দুর্গ। দুর্নীতিবাজদের চরম দাপটের গালে চড় বসিয়ে জনগণ রাষ্ট্রক্ষমতায় পরিবর্তন আনে ১৯৯৬-এর নির্বাচনে। ক্ষমতায় আসে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। দলের সভানেত্রী শেখ হাসিনা সবার সঙ্গে ক্ষমতা শেয়ার করার মানসে জাসদ একাংশের আ স ম আবদুর রব এবং জাতীয় পার্টির একাংশের আনোয়ার হোসেন মঞ্জুকে মন্ত্রিত্ব দেন। কিন্তু থেমে থাকেনি রাষ্ট্রীয় দুর্নীতি। আওয়ামী লীগের ক্ষমতাবানরা দু-দুটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় নিজেদের দখলে রেখে চালাতে থাকেন ক্ষমতার ত্রাসতন্ত্র। দেশটি শীর্ষ দুর্নীতিবাজদের তালিকায় স্থান পেতে থাকে। অন্যদিকে মৌলবাদী জঙ্গিরাও সংগঠিত হতে থাকে তলে তলে। আওয়ামী লীগের অনেক শীর্ষ নেতা ঘাতক-রাজাকারদের বিচারের ব্যাপারে আগে সোচ্চার থাকলেও ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় এসে তারা তা বেমালুম ভুলে যান বরং ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য জামায়াতিদের সঙ্গে আওয়ামীপন্থিরা অনেক জয়েন্টভেঞ্চার ব্যবসা-বাণিজ্যও গড়ে তোলেন। এসব ফিরিস্তি দেশবাসীর অজানা নয়।
ফলে আবারো পতন ঘটে আওয়ামী লীগের। দেশের জনগণ ২০০১-এর নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াতের জোটকে সংখ্যাগরিষ্ঠতা দিয়ে সংসদে নিয়ে আসে। তারা ক্ষমতায় বসে। ২০০১ থেকে ২০০৬ এ সময়টি ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসে অন্যতম কালো অধ্যায়। পুরো দেশটিকেই ক্রিকেট খেলার মাঠে পরিণত করে জোটের নেতা-মন্ত্রীরা। প্রধানমন্ত্রীর ছত্রছায়ায় তার পুত্রদ্বয় তারেক-কোকো হয়ে ওঠে দেশের সর্বোচ্চ নেপথ্য নীতিনির্ধারক। সবকিছুকে ‘ডেম কেয়ার’ করে গণভবনের আদলে গড়ে ওঠে প্যারালাল হাওয়া ভবন। দেশ পরিণত হয় জঙ্গিদের লীলাক্ষেত্রে। যত্রতত্র বোমা ফুটতে থাকে। আক্রান্ত হতে থাকেন দেশের বরেণ্য বুদ্ধিজীবীরা। আদালত প্রাঙ্গণ ভেসে যায় রক্তে।
এই নির্মমতম ঘটনাগুলোর নেপথ্য কাণ্ডারি ছিল সেই পরাজিত রাজাকার শক্তি। যারা ১৪ ডিসেম্বর ১৯৭১ পরিকল্পিতভাবে বরেণ্য বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করেছিল। এই ঘাতকদের উত্তরসূরিরাই কবি শামসুর রাহমান, ড. হুমায়ুন আজাদকে আক্রমণ করেছিল, তা পরে তারা নিজেরাই স্বীকার করেছে। শুধু ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে গেছে তাদের গডফাদার রাজাকার পাষণ্ডরা। এভাবেই বাংলাদেশের একটি ওয়ান-ইলেভেনের প্রেক্ষাপট অনিবার্য হয়ে ওঠে। দেশে ঘটে যায় একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের অবকাঠামো। এই সময়ে বিচারের মাধ্যমে দুই প্রধান জঙ্গিনেতা শায়খ আবদুর রহমান এবং বাংলাভাইকে ফাঁসি দেয়া হয়। প্রশ্নটি হচ্ছে এই দুই জঙ্গিকে ফাঁসি দেয়ার মধ্য দিয়ে জঙ্গিবাদকে কি বাংলার মাটি থেকে সমূলে বিনাশ করা গিয়েছিল? না- যায়নি, বলেই হলি আর্টিজানে আমরা দেখেছি রক্তবন্যা।
৪৫ বছরের বাংলাদেশের অন্যতম সমস্যা হচ্ছে মৌলবাদের প্রসার। মৌলবাদ দমনে বিশ্বের নীতিনির্ধারকরা প্রকৃতপক্ষে আন্তরিক কি না তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। কারণ, মৌলবাদ সব সময়ই সামন্তবাদের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে এসেছে। বিশেষ করে সমাজতান্ত্রিক বিশ্বকে ভেঙে খান খান করে দিতে পুঁজিবাদীরা এটাকে ব্যবহার করেছে। এমন কি গোত্রগত সংঘাত চাঙ্গা করে রাখতেও ব্যবহৃত হয়েছে মৌলবাদী দানতন্ত্র। তবে কি পরোক্ষভাবে গণতন্ত্রই মৌলবাদের সহচর? আসতে পারে সে প্রশ্নটিও। দেখা গেছে, গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠার নামে কোনো কোনো দেশে মৌলবাদকে উসকে দেয়া হয়েছে। বলা হয়েছে- এটাও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম। পুঁজিবাদীরা একে ব্যবহার করেছে তাদের প্রয়োজনে। পরে দেখা গেছে, এভাবেই ছড়িয়ে পড়েছে বিষবাষ্প। দূষিত হয়ে গিয়েছে ক্রমশ! গোটা বিশ্বের মুক্তিকামী গণতান্ত্রিক মানুষের নিঃশ্বাসের আবাসস্থল। বাংলাদেশে যে সামাজিক, অর্থনৈতিক উন্নয়ন হচ্ছে তা করতে হচ্ছে এই কালোশক্তিকে মোকাবেলা করে। এর সঙ্গে যুক্ত থাকছে ক্ষমতাসীনদের কারো কারো দখলদার মনোবৃত্তি। এদের কি সরকারপ্রধান দেখছেন না? এরা যে সরকার ও দলের জন্য খুব ভয়ঙ্কর- তা কি সরকারপ্রধানের অজানা?
ডিসেম্বর এলেই আমার যে কথাটি খুব মনে পড়ে তা হলো আমরা একটি শান্তির দেশ চেয়েছিলাম। কেমন আছেন এই দেশের সাধারণ মানুষ? খবর বেরিয়েছে- মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী ছায়েদুল হককে মন্ত্রিসভা থেকে সরানো ও গ্রেপ্তারের দাবিসহ সারা দেশের সংখ্যালঘু নির্যাতনের প্রতিবাদে মানববন্ধন শেষে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান আদিবাসী পার্টির নেতা-কর্মীরা। সেখানে তারা বলেছেন- ‘স্বাধীনতার ৪৫ বছর পরও সরকার দেশের নাগরিকদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হচ্ছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ওপর হামলা হয়েছে, নির্দোষ রসরাজকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ প্রশাসন বলছে রসরাজ নির্দোষ। তারপরও তার জামিন হচ্ছে না। গাইবান্ধায় সাঁওতালদের বাড়িঘর ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে। সরকার ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সেখানে জনপ্রতি ছয় হাজার টাকা করে অর্থ সাহায্য করলেও তাদের ৩০০ পরিবারের বাড়িঘর নির্মাণ করা হয়নি। তারা অসহায় জীবনযাপন করছে।’ এর মাঝেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন- দেশের আর্থ-সামাজিক ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করতে আওয়ামী লীগের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থাকা দরকার। আমরা মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বাংলাদেশ চেয়েছিলাম। সেই বাংলাদেশ আজও চায় প্রজন্ম। দেশকে এগিয়ে নিতে হলে এর বিকল্প নেই। কারণ একটি রাষ্ট্রের মৌলিক শক্তি হলো সেই জাতির বিশ্বাস ও প্রত্যয়। এই ডিসেম্বরে সে কথাটি আমি আবার সবাইকে মনে করিয়ে দিতে চাই।

সাপ্তাহিক আলোকিত সন্দ্বীপ মেধাবৃত্তি পরীক্ষা সম্পন্ন

শিশুদের অন্তহীন উৎসাহ-উদ্দীপনায় আজ ১ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার মুছাপুর জুনিয়র অসংলগ্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বাংলাদেশ সময় বেলা ১২ টায় সম্পন্ন হলো সাপ্তাহিক আলোকিত সন্দ্বীপ মেধাবৃত্তি পরীক্ষা- ২০১৬। পরীক্ষা ব্যবস্হাপনা কমিটির সচিব প্রধান শিক্ষক মো. মোস্তফা জানান- সন্দ্বীপ উপজেলায় পঞ্চম শ্রেণিতে পাঠরত (প্রাথমিক বিদ্যালয়-কিন্ডারগার্টেন -ইবতেদায়ী মাদরাসায়) ছাত্র-ছাত্রীরা এ বৃত্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহন করে এবং পরীক্ষা পদ্ধতি ছিল বহুনির্বাচনী। তিনি আরো জানান- এ পরীক্ষায় উপজেলার প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে ১জন করে ছাত্র-ছাত্রী অংশগ্রহন করার সুযোগ পেয়েছে। উল্লেখ্য, সন্দ্বীপে বহুনির্বাচনী পদ্ধতিতে এটাই প্রথম বৃত্তি পরীক্ষা। প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালে সাপ্তাহিক আলোকিত সন্দ্বীপ- এর উদ্যোগে এ মেধাবৃত্তি পরীক্ষা শুরু হয়। ২০১৫ সাল থেকে এ বৃত্তির পৃষ্ঠপোষকতা করছেন সারিকাইত ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আলহাজ আবদুল মালেকের সুযোগ্য পুত্র যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী ব্যবসায়ী মো. ইকবাল হায়দার। পরীক্ষা চলাকালে কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে সন্তোষ প্রকাশ করেন সাপ্তাহিক আলোকিত সন্দ্বীপ সম্পাদক এবং উক্ত মেধাবৃত্তির পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যক্ষ মুকতাদের আজাদ খান, মুছাপুর বদিউজ্জামান উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আনোয়ারুল কবির, মাস্টার কামাল উদ্দিন স্মৃতি সংসদের সাবেক সভাপতি মাস্টার আবদুর রহমান ভূইয়া রিপন, এনপিপি নেতা হাসানুজ্জামান সন্দ্বীপি, অনলাইন সাংবাদিক ডা. রিদুয়ানুল বারী, সন্দ্বীপ অনলাইন প্রেস ক্লাবের যুগ্ন সম্পাদক ইলিয়াছ সুমন, সন্দ্বীপ অনলাইন প্রেস ক্লাবের নির্বাহী সদস্য যথাক্রমে ওমর ফারুক, শরীফ উদ্দিন, নজরুল ইসলাম সন্দ্বীপি, আসাদুজ্জামান জাহিদ, পরীক্ষা ব্যবস্হাপনা কমিটি সহ অনেকেই।

সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও একীভূত উন্নয়নে দেশ এগিয়ে যাবে

বাংলাদেশে প্রতিবন্ধিতা সেক্টরে কর্মরত অগ্রগণ্য জাতীয় উন্নয়ন সংস্থা ‘সেন্টার ফর ডিজএ্যাবিলিটি ইন্ ডেভেলপমেন্ট (সিডিডি)’-এর সহায়তায় সন্প্রতি “স্ট্রেন্দেনিং কমিউনিটি বেজড ইনক্লুসিভ ডেভেলপমেন্ট ইন্ বাংলাদেশ-ঝঈইওউ-ই”-প্রকল্পের পরিচিতি সভা ও শুভ উদ্বোধন সম্পন্ন হয়েছে। চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের মাননীয় জেলা প্রশাসক জনাব সামসুল আরেফিন প্রধান অতিথি হিসেবে এই প্রকল্পের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন। সিডিডি-এর নির্বাহী পরিচালক এমএইচএম নোমান খান-এর সভাপতিত্বে জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, মাননীয় জেলা প্রশাসক (সার্বিক) জনাব খোরশেদ আলম, মাননীয় সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ আজিজুর রহমান সিদ্দিকী, সিবিএম অস্ট্রেলিয়ার কান্ট্রি ডিরেক্টর শাহনেওয়াজ কোরাইশী, সিডিডি-এর পরিচালক নাজমুল বারী, বাঁশখালী উপজেলার মাননীয় চেয়ারম্যান জনাব জহিরুল ইসলাম, জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক বন্দনা দাশ, জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা অঞ্জনা ভট্টাচার্য্য, জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন, চট্টগ্রাম জেলায় কর্মরত বিভিন্ন উন্নয়ন সংগঠনের কর্মকর্তাবৃন্দ। উদ্বোধনকালে মাননীয় জেলা প্রশাসক বলেন, “উন্নয়ন সংগঠনসমূহ এবং সরকারের সমন্বিত প্রচেষ্ঠায় দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জীবনমান উন্নয়নে বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের অবদান অনস্বীকার্য্য। আমি প্রত্যাশা করব, এ প্রকল্পের মাধ্যমে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিবর্গ যেন সঠিক সেবা ও সহযোগিতা পায়। সকলের সহযোগিতায় ও সমন্বয়ের মাধ্যমে কার্যক্রম বাস্তবায়িত হবে এটাই প্রত্যাশা করছি। সভাপতি জনাব এএইচএম নোমান খান বলেন, আমরা এই প্রকল্পটি রোল মডেল হিসেবে বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। প্রাথমিক পর্যায়ে তিনটি উপজেলা ও ১টি সিটি কর্পোরেশন এলাকাকে নির্বাচন করে এটি বাস্তবায়ন এবং ফলাফল দেখতে চাই। পরবর্তীতে কাজের ভিন্নতা যুক্ত করে অন্যান্য এলাকাতে বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। আমরা এ প্রকল্পের মাধ্যমে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য একীভূত উন্নয়নের লক্ষ্যে কাজ করে যাবো। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রকল্পের কার্যক্রম এবং এর ফলে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ইতিবাচক উন্নয়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়। এতে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক, জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা, জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন উন্নয়ন সংগঠনের কর্মকর্তাবৃন্দ। অনুষ্ঠানের শুরুতে সুচনা ও স্বাগত বক্তব্য রাখেন যথাক্রমে ডিডিআরসি’র প্রধান নির্বাহী শহিদুল ইসলাম সাজ্জাদ ও অপকার নির্বাহী পরিচালক মো: আলমগীর, সিবিআইডি কর্মপন্থা ও সিবিআইডি পরিচিতি উপস্থাপন করেন সিডিডি পরিচালক নাজমুল বারী। প্রকল্প পরিচিতি উপস্থাপন করেন জনাব তানবির আহমেদ ও মো: রেজাউল আলম। সহযোগী সংস্থা সমূহের পরিচিতি উপস্থাপন করেন ইয়াসমীন পারভীন, নির্বাহী পরিচালক যুগান্তর সমাজ উন্নয়ন সংস্থা (জেএসইউএস)। এরপর সহযোগী সংস্থার পক্ষে বক্তব্য রাখেন এওয়াক প্রধান নির্বাহী শফিউল আজম সিরাজী। এখানে উল্লেখ্য, চট্টগ্রাম জেলার ফটিকছড়ি, বাঁশখালী ও রাঙ্গুনীয়া ও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ১৪ নম্বর ওয়ার্ডে বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। তৃণমূল পর্যায়ের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের উন্নয়নে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ১৪ নং ওয়ার্ডে বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ‘ডিডিআরসি’ এবং বাঁশখালী উপজেলায় ‘যুগান্তর সমাজ উন্নয়ন সংস্থা (জেএসইউএস)’, রাঙ্গুনীয়া উপজলোয় ‘এওয়াক’ এবং ফটিকছড়ি উপজেলায় ‘ঙচঈঅ (ঙৎমধহরুধঃরড়হ ভড়ৎ ঃযব ঢ়ড়ড়ৎ পড়সসঁহরঃু ধফাধহপবসবহঃ)’ দুটি করে ইউনিয়নে উক্ত প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করার সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।

চন্দনাইশে ইটভাটায় পাচারের জ্বালানি কাঠ আটক

ইটভাটায় পাচারের সময় চন্দনাইশ থেকে জ্বালানি কাঠসহ একটি মিনি ট্রাক আটক করা হয়েছে। ১ ডিসেম্বর (বৃহস্পতিবার) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার আরকান মহা সড়কের চন্দনাইশের বাইন্যা পুকুর পাড় এলাকা ট্রাক ভর্তি (সিরাজগঞ্জ ড-১১-০০৯৮) এই জ্বালানি কাঠ আটক করা হয়। তবে গাড়ির চালক পলাতক রয়েছে। কাঠের আনুমানিক মূল্য ৫০ হাজার টাকা। দক্ষিণ বন রেঞ্জের পটিয়া রেঞ্জার সুলতানুল আলম চৌধুরীর নির্দেশে এ অভিযান পরিচালিত হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন, চন্দনাইশ বরগুনি বিট কর্মকর্তা মাহবুব আলম, বাদল কান্তি দত্ত, নারায়ন চন্দ্র সরকার, ভিলেজার মো. কামাল, বরগুনি বিটের হেডম্যান আবদুর রহমান ও পটিয়া রেঞ্জে আলী আহমদ চৌধুরী, আলমগীর, আবুল কালাম, পটিয়ার ফরেস্ট হেড ম্যান মোহাম্মদ মহিউদ্দিন। রেঞ্জার সুলতানুল আলম চৌধুরী জানিয়েছেন, চন্দনাইশের ইটভাটাতে পোড়ানোর জন্য লোহাগাড়া এলাকা থেকে জ্বালানি কাঠ আনা হচ্ছিল। এ খবর পেয়ে অভিযান চালিয়ে জ্বালানি কাঠসহ ট্রাকটি আটক করা হয়। কেউ পরিবেশের ক্ষতি হয় এমন কোন কাজ করলে তাকে বন আইনে মামলা দেওয়া হবে। জ্বালানি কাঠ আটকের ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
বার্তা প্রেরক মোহাম্মদ মহিউদ্দিন

এফআইডিসি রোডে মসজিদ উদ্বোধন করেন সিটি মেয়র

নগরীর এফআইডিসি রোডে মসজিদ-এ সিদ্দিকী আকবর ০২ ডিসেম্বর ২০১৬ খ্রি. শুক্রবার বাদ জুম্মা উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আলহাজ্ব আ জ ম নাছির উদ্দীন । তিনি ফলক উম্মোচন, মোনাজাত এবং জুম্মা’র নামায আদায়ের মাধ্যমে আল্লাহর এ পবিত্র ঘর মসজিদটির শুভ উদ্বোধন করেন। এসময় মুসল্লি সমাবেশে সিটি মেয়র আলহাজ্ব আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, যাদের অর্থায়ন এবং সহযোগিতায় আল্লাহর ঘর তৈরী হয়েছে সেসকল ব্যক্তিরা খুবই ভাগ্যবান। আল্লাহর পথে আল্লাহর জন্য এবং মানুষের কল্যাণে যারা কাজ করে তাদেরকে আল্লাহ এবং দুনিয়ার মানুষ মনে রাখে। ভাল কাজের ফল হিসেবে আল্লাহতায়ালা রোজ হাশরের দিন তাঁদের জন্য বেহশত নির্ধারিত রাখবেন । মেয়র বিত্তবান সকলকে আল্লাহকে রাজী করার জন্য মানুষের কল্যানে কাজ করার আহবান জানান। মসজিদ কমিটির সভাপতি বিশিষ্ট শিল্পপতি আলহাজ্ব সৈয়দ মোহাম্মদ লোকমান মুসল্লি সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন। এতে মসজিদ কমিটির সেক্রেটারী এস এম ফারুক হাসান, কাউন্সিলর মোহাম্মদ আজম, অন্যান্যদের মধ্যে মুজিবুর রহমান, মোহাম্মদ সাজ্জাদ, এস এম ফরহাদ হোসেন, চান্দগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহজাহান, মেয়রের সহকারী একান্ত সচিব রায়হান ইউসুফ, মো. বেলাল, আ ন ম শহিদুল ইসলাম বাবু, আলিমুন মোস্তফা চৌধুরী, মো. আবুল হাশেম, ডা. মোস্তাফিজুর রহমান, ইঞ্জিনিয়ার সলিম উল্লাহ চৌধুরী, মো. এরশাদ সহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন। সংবাদদাতা
মো. আবদুর রহিম জনসংযোগ কর্মকর্তা

রাণীনগরে সংবাদ-রাণীনগরে সড়ক নিরাপদ চাই

নওগাঁ প্রতিনিধি: নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) সচেতনতা মূলক সামাজিক সংগঠনটি দেশের সড়ক ব্যবস্থাকে নিরাপদ করার লক্ষ্যে দীর্ঘ ২৩বছর আন্দোলনের মাধ্যমে ১ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার ২৪বছরে পর্দাপণ করেছে। নিসচা’র প্রতিষ্ঠা বাষির্কী পালন উপলক্ষ্যে নওগাঁর রাণীনগরে সচেতনতা মূলক চলচিত্র প্রদর্শনী ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কেক কাটার মধ্য দিয়ে রাণীনগর প্রেস ক্লাব ভবনে নিসচা’র সভাপতি বখতিয়ার হোসেন ডায়মন্ড’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন, সহ-সভাপতি আবুল বাশার (চঞ্চল), সাধারণ সম্পাদক সাইদুজ্জামান সাগর, ১নং খট্টেশ্বর রাণীনগর ইউপি চেয়ারম্যান ও নিসচা’র উপদেষ্টা আসাদুজ্জামান পিন্টু, এসএম সাইফুল ইসলাম, প্রেস ক্লাবের সভাপতি অরুন বোস, প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক পাভেল রহমান, প্রচার সম্পাদক উজ্জল হোসেন, সেজা মন্ডল, শফিউত ইসলাম, রাব্বি, জাহিদ হাসান, সাবেরুল ইসলাম প্রমুখ। আলোচনা সভা শেষে রেলওয়ে ষ্টেশন সংলগ্ন সিএনজি স্ট্যান্ডে সর্ব সাধারণের জন্য সচেতনতা মূলক চলচিত্র প্রদর্শন করা হয়
রাণীনগরে তিন দিনের মাথায় আকাবারোও ডাতি
সুদর্শন কর্মকার,নওগাঁ প্রতিনিধি: নওগাঁর রাণীনগরে ১ নভেম্বর বুধবার দিবাগত গভীর রাতে উপজেলার কৃষ্ণপুর গ্রামে বসতবাড়িতে দুর্ধর্ষ ডাকাতি সংঘটিত হয়েছে। ডাকাতরা ওই বাড়ির বারান্দার গ্রীল কেটে ভিতরে প্রবেশ করে গৃহকর্তার শয়ন ঘরে প্রবেশ করে দেশীয় অস্ত্রের মুখে ভয় দেখিয়ে মারপিট করে পাশের ঘরে বাড়ির সদস্যদের আটক রেখে নগদ টাকা স্বর্নলংকার সহ প্রায় ৮ লক্ষ ৪৫ হাজার টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায় ডাকাতদল। ঘটনাস্থল পুলিশ পরিদর্শন করলেও তিন দিন অতিবাহিত হলেও এরিপোর্ট লেখা পর্যন্ত রাণীনগর থানায় কোন মামলা হয়নি। এনিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভূগছে। গত ১৫/২০ দিন আগে ওই এলাকার ঘোষগ্রাম মোল্লাপাড়া গ্রামের পল্লী চিকিৎসক ডাক্তার আব্দুল জব্বারের বাড়ির ডাকাতি ঘটনায় রহস্যজনক কারণে ডাকাত দলের কোন সদস্য গ্রেপ্তার না হওয়ায় পুলিশী তৎপরতা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠছে। পরপর ডাকাতির ঘটনায় রাণীনগরবাসি সন্ধ্যা লাগলেই রাতভর নিন-ঘুম ছেড়ে ডাকাতি আতংকে ভূগছে। জানাগেছে, উপজেলার ৩নং গোনা ইউপি’র কৃষ্ণপুর-প্রেমতলী গ্রামের মৃত-মুনছুর আলী মনসির ছেলে জালাল উদ্দিন মনসির বাড়িতে বুধবার রাত আনুমানিক সোয়া ১ টার দিকে হাফ প্যান্ট পরিহিত ১০/১২ জন মুখোশ ধারী সশস্ত্র ডাকাতদল তার বাড়ির বারান্দার গ্রীল কেটে শয়ন ঘরে প্রবেশ করে বাড়ির সকল সদস্যকে মারপিট করে পাশের ঘরে দেশীয় অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে রেখে নগদ সাড়ে ৩ লক্ষ টাকা, ৭ ভরি স্বর্ণালংকার ও মূল্যবান কাপড়চোপড়সহ মোট প্রায় ৮ লক্ষ ৪৫ হাজার টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে বলে বাড়ির গৃহকর্তা জালাল উদ্দিন মন্সি জানান। তিন দিনের মাথায় ডাকাতির ঘটনায় এলাকাবাসি চরম আতংকে নিন-ঘুম বাদ দিয়ে রাত কাটাচ্ছে এবং পুলিশী তৎপরতা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন উঠছে। তাদের দাবি রাতে টহল ব্যবস্থা আরও জোরদার করলে ডাকাতি ঘটনা প্রতিরোধে সাধারণ মানুষ কিছুটা সাহস পাবে। রাণীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ মোস্তাাফিজুর রহমান জানান, ১নভেম্বর বুধবার রাতে কৃষ্ণপুর গ্রামের জালাল মন্সির বাড়িতে কতিপয় মুখোশধারী লোকজন চুরি করার উদ্দেশ্যে তার বাড়ির বারান্দার গ্রীল কেটে প্রবেশ করে কিছু জিনিসপত্র হাতিয়ে নেওয়ার এক পর্যায় বাড়ির সদস্যরা টের পেয়ে দরজা খুললে মুখোশধারী লোকজন বাড়ির সবাইকে মারপির্টে একপর্যায় জিম্মি করে মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। এব্যাপারে রাণীনগর থানায় একটি মামলার প্রস্তুতি চলছে।
সুদর্শন কর্মকার। রাণীনগর, নওগাঁ।

বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চারনেতা স্মৃতি পরিষদের মামুন দাশ কে সংবর্ধনা প্রদান

সন্দীপনা সাংস্কৃতিক সংসদের প্রতিষ্ঠাতা সাধারন সম্পাদক ডি কে দাশ মামুন উচ্চতর ডিগ্রী অর্জণ করায় বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চারনেতা স্মৃতি পরিষদের উদ্যোগে ০২ ডিসেম্বর ২০১৬ খ্রি. শুক্রবার সকালে নগরীর দোস্ত বিল্ডিং-এ সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শিল্পী সুযোশময় চৌধুরী। বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মো. আবদুর রহিম, সংবর্ধিত অতিথি ভাষ্কর ডি কে দাশ মামুন,শিক্ষাবিদ বাবুল কান্তি দাশ, কবিয়াল অশ্বিনী কুমার দাশ, পরিপদ দে, সন্তোষ কুমার দে, অমলেন্দু রায়, কবি আসিফ ইকবাল, রাশেদ মাহমুদ পিয়াস, বোরহান উদ্দিন গিফারী,মেজবাহ উদ্দীন, মো. রাশেদ, এমরান হোসেন মিঠু, উজ্জ্বল সিংহ, দিদারুল আলম, শান্তা পাল, জাহানারা পারু, নিগার, বৃষ্টি, লিনা সহ অন্যরা। আলোচকগণ বলেন, জ্ঞানী ব্যক্তির অর্জিত জ্ঞাণ দ্বারা দেশ ও জাতি আলোকিত হলেই তাঁর জ্ঞানের যথার্থ মূল্যায়ন হয়। যারা জ্ঞানী-গুনিদের যথাযথ মূল্যায়ন করে এবং তাদের লব্ধ জ্ঞাণকে সমাজ পরিবর্তনে কাজে লাগায় তারাই প্রকৃত দেশ প্রেমিক। অনুষ্ঠানে সংবর্ধিত অতিথি ডি কে দাশ মামুনকে ফুলেল শুভেচ্ছায় অভিষিক্ত করা হয়।
সংবাদদাতা আসিফ ইকবাল

খাগড়াছড়িতে পার্বত্য শান্তি চুক্তির ১৯ বর্ষপূর্তিতে র‌্যালী-বর্ণাঢ্য আয়োজন

নুরুল আলম, খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি: পার্বত্য শান্তি চুক্তির ১৯ বর্ষপূর্তিতে বর্ণাঢ্য র‌্যালী-কনসার্টসহ নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে দিনটি পালন করেছে খাগড়াছড়িবাসী। শুক্রবার সকাল ৯টায় জেলা পরিষদ প্রাঙ্গনে খাগড়াছড়ি সংসদ সদস্য কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরার র‌্যালী ও পার্বত্য শান্তি চুক্তির দিবসের অনুষ্ঠানিক উদ্ভোধন করেন। এ সময় তিনি বলেন, পার্বত্যাঞ্চলের মানুষের শান্তি প্রতিষ্ঠায় বর্তমান শেখ হাসিনার সরকার বিগত ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর এ পার্বত্য চুক্তি করে। পাহাড়ের আজকের এ’শান্তি বর্তমান সরকারের অবদান বলে তিনি উল্লেখ করে শান্তি-শৃঙ্খলা ও সম্প্রীতি বজায় রাখতে সকলের প্রতি আহবান জানান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কংজরী চৌধুরী, খাগড়াছড়ি রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল অ স ম মাহবুবুল আলম, বিজিবি সদর সেক্টর কমান্ডার কর্ণেল মতিউর রহমান, জেলা প্রশাসক মো: ওয়াহিদুজ্জামান, পুলিশ সুপার মজিদ আলী, বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোমিনুর রশিদ,খাগড়াছড়ি সদর জোন কমান্ডার লে: কর্ণেল হাসান মাহমুদ প্রমূখ। জেলা পরিষদ প্রাঙ্গনে শান্তির প্রতীক সাদা পায়রা ও বেলুন উড়িয়ে র‌্যালীর অনুষ্ঠানিক উদ্ধোধন শেষে এক বর্ণাঢ্য র‌্যালী জেলা শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে টাউন হলে গিয়ে শেষ হয়। এ সময় র‌্যালীতে অংশ নেয় খাগড়াছড়ি জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মো: জাহেদুল আলমসহ অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মীরা। বিকেলে খাগড়াছড়ি স্টেডিয়াম মাঠে এক বর্ণাঢ্য কনসার্টের আয়োজন করেছে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ।
নুরুল আলম, খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি তারিখ: ০২-১২-২০১৬

গাজীপুর সংবাদ- গাজীপুরের তুরাগ তীরে ৫ দিনব্যাপী ইজতেমা শুরু

মুহাম্মদ আতিকুর রহমান (আতিক), গাজীপুর জেলা প্রতিনিধি ঃ গাজীপুরের টঙ্গীতে তুরাগ নদীর তীরে শুরু হয়েছে পাঁচ দিনের ‘জোড় ইজতেমা’। প্রতিবছর বিশ্ব ইজতেমার ৪০ দিন আগে ‘জোড় ইজতেমা’ হয়ে থাকে। ২ ডিসেম্বর শুক্রবার সকালে এ বছরের জোড় শুরু হয়েছে। এতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা অন্তত আড়াই লাখ মুসুল্লী সমবেত হয়েছে বলে জানিয়েছে ইজতেমা আয়োজক তাবলীগ জামাত কর্তৃপক্ষ। ইজতেমা আয়োজক কমিটির মুরব্বি মওলানা গিয়াস উদ্দিন আহমেদ বলেন, জোড় মানে মিলন বা সম্মিলন। পাঁচ দিনের জোড় ইজতেমায় তিন চিল্লাওয়ালা সাথীরা অংশ নেন। জোড় শেষে ইসলামের দাওয়াতের কাজে বের হবেন সাথীরা। এবারের প্রথম পর্বের বিশ্ব ইজতেমা আগামী ১৩ থেকে ১৫ই জানুয়ারি এবং দ্বিতীয় পর্বের ইজতেমা ২০ থেকে ২২ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে। শুক্রবার ফজর নামাজের পর ভারতের মওলানা ইকবাল হাফিজের ‘কালগুজারি’ বয়ান দিয়ে জোড় ইজতেমা শুরু হয়। তার বয়ান বাংলায় অনুবাদ করেন বাংলাদেশি মওলানা আব্দুল মতিন। তাবলীগ জামাতের বিভিন্ন মেয়াদের চিল্লায় যারা ছিলেন, মূলত সেসব মুসল্লিদের নিয়ে শুরু হয়েছে ইজতেমার প্রস্তুতিমূলক সমাবেশ ৫ দিনব্যাপী জোড় ইজতেমা। জোড় ইজতেমা উপলক্ষে ইজতেমা ময়দানে আসা মুসুল্লিদের নিরাপত্তায় পোশাকে ও সাদা পোশাকে ৫ শতাধিক নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। ৬ ডিসেম্বর মঙ্গলবার দুপুরে মোনাজাতের মধ্য দিয়ে জোড় ইজতেমা শেষ হওয়ার কথা। ##############################################
গাজীপুরে অজ্ঞাত পরিচয় শিশুর লাশ
মুহাম্মদ আতিকুর রহমান (আতিক), গাজীপুর জেলা প্রতিনিধি ঃ গাজীপুরে তুরাগ নদী থেকে অজ্ঞাত পরিচয় এক শিশুর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ১ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার বিকালে নদীর ইছর গুদারাঘাট এলাকায় লাশটি পাওয়া যায় বলে জয়দেবপুর থানার এসআই নুরুল ইসলাম জানান। তিনি বলেন, বিকালে নদীতে শিশুর লাশ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা থানায় খবর দেয়। পরে লাশটি উদ্ধার করে গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে নিয়ে যায়। আনুমাণিক আড়াই বছরের ওই শিশুটির মৃত্যুর কারণ সর্ম্পকে কিছু জানাতে পারেন নি এসআই নুরুল ইসলাম। ##############################################
গাজীপুরের বঙ্গবন্ধ হাইটেক সিটি বিশ্বের সপ্তম বৃহত্তম ডেটা সেন্টার হচ্ছে --- গাজীপুরে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী
মুহাম্মদ আতিকুর রহমান (আতিক), গাজীপুর জেলা প্রতিনিধি ঃ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক জানিয়েছেন, গাজীপুরের কালিয়াকৈরে অবস্থিত বঙ্গবন্ধু হাইটেক সিটিতে বিশ্বের সপ্তম বৃহত্তম ডেটা সেন্টার টিয়ার- ফোর (ঞরবৎ-৪) হচ্ছে। তিনি বলেন, পিপিপি মডেলে (প্রাইভেট পাবলিক পার্টনারশিপ ব্যাসিসে) এ সিটির ডেভেলপ করা হচ্ছে। আগামী ১০ বছরে এ সিটির ৩৫৫ একরের পুরা পার্টটা ডেভেলপ করার পরিকল্পনা রয়েছে। সেই পরিকল্পনার মধ্যে টেকনো পলিস এন্ড টেকনো সিটি নামের দুটি ডেভলপারকে তিনটি ব্লক দিয়েছি। তারা আগামী ৩ বছরে ২০শতাংশ এবং ১০ বছরে শতভাগ ডেভেলপ করবে। সিটির সাত একর জায়গায় বিশ্বের সপ্তম বৃহত্তম ডেটা সেন্টার টিয়ার- ফোর (ঞরবৎ-৪) হচ্ছে। ‘ন্যাশনাল হেল্প ডেস্ক’ যেখানে ইমারজেন্সি সার্ভসের জন্য দেশের ১৬ কোট মানুষের পাশে জননেত্রী শেখ হাসিনার সরকার ২৪ ঘন্টা তাদের জরুরী সেবায় নিয়োজিত আছেন। এই বিষয়গুলো চলমান আছে। তিনি ১ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার দুপুরে গাজীপুরের কালিয়াকৈরে বঙ্গবন্ধু হাইটেক সিটির উন্নয়ণ কাজ পরিদর্শনকালে এসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ সব কথা বলে। এ সময় ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রনালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ইমরান আহমদ, সদস্য বেগম হোসনে আরা লুৎফা ডালিয়া, কালিয়াকৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ সানোয়ার হোসেন উপস্থিত ছিলেন। তিনি আরো জানান, এখানে ডিজিকন কোম্পানি দুইশ আসনের কল সেন্টার করছে। যা আগামী ২/১ মাসের মধ্যে চালু হবে বলে আশা করছি। হাইটেকের যে কার্যক্রম অথাৎ সফটওয়্যার, হার্ডওয়্যার এবং সার্ভিস সেক্টরে যে ব্যাপক কর্মসংস্থানের তৈরি করতে চাই, দেশী-বিদেশী আইটি কোম্পানীগুলোকে এখানে কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দিতে চাই সেটা একদিক দিয়ে শুরু হয়ে গেছে। ##############################################
গাজীপুর জেলা প্রতিনিধি মুহাম্মদ আতিকুর রহমান (আতিক)

নন্দীগ্রামে নিরাপদ সড়ক চাই’র প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

নন্দীগ্রাম (বগুড়া) প্রতিনিধি ঃ বগুড়ার নন্দীগ্রামে নিরাপদ সড়ক চাই’র প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হয়েছে। গত ১ লা ডিসেম্বর নিরাপদ সড়ক চাই’র ২৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে নন্দীগ্রামে র‌্যালী, আলোচনা সভা, মানববন্ধন ও কেক কর্তন করা হয়েছে। নিরাপদ সড়ক চাই’র নন্দীগ্রাম উপজেলা শাখার সভাপতি বদরুদ্দোজা তৌফিকের সভাপতিত্বে উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোসা.শরীফুন্নেসা। বিশেষ অতিথি বক্তব্য রাখেন, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম মন্ডল, নন্দীগ্রাম পৌরসভার মেয়র কামরুল হাসান সিদ্দিকী জুয়েল, থানার ওসি আব্দুর রাজ্জাক, উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা শারমিন জাহান বিউটি, ২নং নন্দীগ্রাম ইউপি চেয়ারম্যান প্রভাষক আব্দুল বারী বারেক, এসআই আব্দুল ওয়াদুদ ও প্রবীন শিক্ষক লুৎফুন্নেসা প্রমুখ। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন, সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক প্রভাষক রাজু আহমেদ ও সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম মোস্তফা মতিন।

লাইভ টিভি

ওয়ার্ড পরিক্রমা

শিল্পপতি মাসুদের ২০ হাজার কোটি টাকার বিদ্যুৎ প্রকল্প-চট্টগ্রামের আশার আলো চীনা রাষ্ট্রপতি শি জিনপিং ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মিলে যে ছয়টি মেগা প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স’াপন করেছেন এরমধ্যে দুইটি চট্টগ্রামের। একটি কর্ণফুলী নদীর তলদেশে টানেল, এবং আরেকটি বাঁশখালীর ১৩২০ মেগাওয়াটের কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র। প্রথমটি জিটুজি অর্থাৎ সরকারি প্রকল্প। আর শেষেরটি হলো দেশের অন্যতম শিল্পপ্রতিষ্ঠান এস আলম গ্রুপের সঙ্গে চীনা সরকারি প্রতিষ্ঠান সেপকো’র যৌথ প্রকল্প। স্বাধীনতার ৪৫ বছর পর এই প্রথম চট্টগ্রামের কোনো ব্যবসায়ী’র প্রকল্পের উদ্বোধন করলেন দু’দেশের সরকার প্রধান। এতে বিনিয়োগ হবে ২০ হাজার কোটি টাকা। প্রকল্পের আকার এবং বিপুল অংকের অর্থের এ প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়ন হলে বাংলাদেশী ব্যবসায়ীদের সফল উদ্যোক্তা’র তকমা লাগবে গায়ে। এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সাবেক সভাপতি ড. মইনুল ইসলাম বলেছেন, ‘এ নিয়ে কিছুটা বিরোধ ছিলো। বিরোধের সমধান করে এত বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে পারলে এটি হবে বেসরকারি বিদ্যুৎখাতের পাইওনিয়ার। একই সঙ্গে বাংলাদেশী ব্যবসায়ীরা সক্ষম সে বিষয়টিও প্রতিষ্ঠিত হবে।’ দক্ষিণ চট্টগ্রামে বঙ্গোপসাগরের তীরে বাঁশখালী এলাকার এ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে পরিবেশের ক্ষতি হবে এ ধরনের মিথ্যা অজুহাত দেখিয়ে বেশ কয়েকমাস আগে কিছুটা ভুল বুঝাবুঝির সৃষ্টি হয়েছিলো। এর জের ধরে পুলিশের সঙ্গে স’ানীয় এলাকাবাসীর সংঘর্ষে নিহত হয়েছিলো চারজন। এখন এ নিয়ে আর কোনো বিরোধ নেই। প্রকল্পের বিরোধিতাকারী ও বিএনপি নেতা লিয়াকত আলী বিষয়টি নিয়ে নিশ্চুপ। দক্ষিণ চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে বড় ধরনের বিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের স্বপ্ন দেখেছিলেন চট্টগ্রামের পটিয়ার সন্তান এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান সাইফুল আলম মাসুদ। তিনি বেসরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠান ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকেরও চেয়ারম্যান। চীনা রাষ্ট্রপতি শি জিনপিং এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আনুষ্ঠানিক ভিত্তিপ্রস্তর স’াপনের পর সাইফুল আলম মাসুদ বলেন, ‘ব্যবসা অনেকদিন ধরেই করছি। বড় প্রকল্প বাস্তবায়নে নিজেদের সামার্থ্য কোন পর্যায়ে উন্নীত হয়েছে সেটি পরখ করারও কৌতুহল জাগে মনে। তাই ব্যবসায়ীক লাভের জন্য নয়, সামাজিক উদ্যোগেরও অংশ এ প্রকল্প। এ ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়নে যে সকল রাজনীতিবিদ, রাষ্ট্রযন্ত্র ও প্রশাসনিক কর্মকর্তারা সহযোগিতা করেছিলেন আমি তাদের সকলের কাছে কৃতজ্ঞ। আগামী চার বছরের মধ্যে এ প্রকল্প যাতে সফলভাবে শেষ করতে পারি সে জন্য সকলের সমর্থন ও সহযোগিতা চাই।’ জনাব মাসুদ আরো বলেন, ‘আমাদের প্রতিষ্ঠান যত টানা উৎসাহী ছিলো, তার চেয়ে অনেক বেশি আগ্রহী ছিলেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি সাহস যুগিয়েছেন, পরামর্শও দিয়েছেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে সত্যিকার অর্থে চট্টগ্রামকে ভালোবাসেন সেটি আজ (গতকাল) আবারো প্রমাণিত হলো। যে ছয়টি প্রকল্প তিনি চীনা রাষ্ট্রপতির সঙ্গে ভিত্তিপ্রস্তর স’াপন করেছেন তার দুইটিই চট্টগ্রামের। আমরা চট্টগ্রামবাসী বিশেষভাবে প্রধানমন্ত্রীর কাছে কৃতজ্ঞ।’ প্রকল্প বাস্তবায়নের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, নির্ধারিত চার বছরের মধ্যেই এর নির্মাণ কাজ শেষ করে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে সামর্থ্য হবে। চীনা সরকারি প্রতিষ্ঠান ‘সেপকো’ ও বাংলাদেশের বেসরকারি শিল্প প্রতিষ্ঠান এস আলম গ্রুপের যৌথ এ প্রকল্পের নাম ‘এসএস পাওয়ার ১ ও ২ লিমিটেড।’ চীনে মাত্র ২৮ মাসে এ ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়নের নজির রয়েছে ‘সেপকো’র। বাঁশখালীতে প্রকল্প শেষ করতে সময় লাগবে ৪৫ মাস। পাইলিংয়ের জন্য ১২০টি রিগ সরাসরি নিয়ে আসা হবে বাঁশখালীর প্রকল্প এলাকায়। ১৫ দিনের মধ্যেই শেষ করা হবে প্রকল্পের সকল পাইলিং। লোহার রডের খাঁচা তৈরি করে আনা হবে চীন থেকে। প্রকল্প এলাকায় জেটি বানাতে সময় লাগবে ১৮ মাস। সর্বোচ্চ ছয় হাজার মেট্রিক টনের কয়লাবাহী জাহাজ জেটিতে ভিড়তে পারবে। চীনা বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর তত্ত্বাবধানে কাজ শুরু হবে শীঘ্রই। দেশের অন্যতম রড প্রস’কারী প্রতিষ্ঠান বিএসআরএম গ্রুপের চেয়ারম্যান আলী হোসেন আকবরআলী এফসিএ এ ধরনের বেসরকারি উদ্যোগকে সহযোগিতা করায় উৎসাহিত বোধ করছেন। তিনি বলেন, ‘এটি খুব ভালো খবর আমাদের জন্য। ভালো লক্ষণও। শিল্পপতিরা যে শিল্প গড়তে গড়তে সক্ষমতা অর্জন করছেন আর আমাদের সরকার আন্তরিকভাবে সমর্থন দিচ্ছেন তাতেই দেশের অর্থনীতি এগিয়ে যেতে বাধ্য। তাদের দেখা-দেখি চীনের সঙ্গে আমরাও বড় উদ্যোগে হাত দিবো বলে আশা করছি।’ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দেশের শীর্ষস’ানীয় অপর এক শিল্পপতি জানান, খুবই উৎসাহব্যাঞ্জক প্রকল্প। আমরা গর্বিত ও আনন্দিত যে সরকার বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের বড়শিল্প গড়তে সহায়তা করছে। এ গ্রুপের বার্ষিক লেনদেন প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকা। দেশের অন্যতম শিল্প প্রতিষ্ঠান পিএইচপি ফ্যামেলির ব্যবস’াপনা পরিচালক ইকবাল হোসেন চৌধুরী মালয়েশিয়া থেকে জানান, চীনের রাষ্ট্রপতি ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী মিলে ২০ হাজার কোটি টাকার বাংলাদেশী শিল্পপতির উদ্যোগে ভিত্তিপ্রস্তর স’াপন করেছেন তা অবশ্যই পজেটিভ। এতে চাইনিজরা উৎসাহিত হবেন। আমরা বাংলাদেশীরা যে বড় শিল্প উদ্যোগ বাস্তবায়ন করতে পারি সেটিও দেখবে বিশ্ব।

খেলা

৮ উইকেটের বিশাল জয় পেল কুমিল্লা ফয়সাল মাহমুদ ক্রীড়া ডেক্স প্রতিবেদনঃ অবশেষে জয় পেল মাশরাফির কুমিল্লাটানা পাঁচ ম্যাচ হারের পর অবশেষে জয়ের মুখ দেখলো মাশরাফির কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। শনিবার রাজশাহী কিংসের বিপক্ষে ৩২ রানে জিতেছে তারা। টসে হেরে প্রথমে ব্যাটিং করে নির্ধারিত ওভার শেষে ৫ উইকেট হারিয়ে ১৫২ রান করে কুমিল্লা। জবাবে ১৯ ওভারে ১২০ রানেই থামে রাজশাহীর ইনিংস। ফলে ৩২ রানের জয় পায় মাশরাফিরা। এদিন দলে খুব একটা পরিবর্তন না আনলেও ওলটপালট হয় ব্যাটিং পজিশনে। ইমরুল কায়েস-লিটন দাস শুরু থেকে কুমিল্লার ইনিংস ওপেন করলেও শনিবা ওপেনিংয়ে নামেন নাজমুল হোসেন শান্ত ও খালিদ লতিফ। লতিফ ৬ রানে আউট হলেও শান্ত ইনিংস সর্বোচ্চ ৪১ রান করেন। এছাড়া কুমিল্লার হয়ে ইমরুল ৩৪, রায়ান টেন ডেস্কাট অপরাজিত ২১, সোহেল তানভীর অপরাজিত ১৫ এবং আহমেদ শেহজাদ ১১ রান করেন। রাজশাহীর হয়ে অধিনায়ক স্যামি নেন ২ উইকেট। এছাড়া মেহেদী মিরাজ ও ফরহাদ রেজা একটি করে উইকেট নেন। অবশেষে জয় পেল মাশরাফির কুমিল্লা১৫৩ রানে লক্ষ্যে খেলতে নেমে মুমিনুল ছাড়া রাজশাহীর কোনো ব্যাটসম্যান সুবিধা করতে পারেননি। ওপেনার মুমিনুলের ৫৩ রান শুধু পরাজয়ের ব্যবধান কমিয়েছে। হার ঠেকাতে পারেনি। পাঁচটি চার ও এক ছক্কায় ৪৩ বল খেলে ওই রান করেন টাইগার লিটল মাষ্টার। সংক্ষিপ্ত স্কোর – কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স : ১৫২/৫; ২০ওভার (নাজমুল হোসেন ৪১, ইমরুল ৩৪, রায়ান টেন ২১*; স্যামি ২/৩৪, ফরহাদ রেজা ১/২৬) রাজশাহী কিংস : ১২০/১০; ২০ ওভার (মুমিনুল ৫৩, সামিত প্যাটেল ১২, জুনাইদ ১০; তানভীর ৪/১৮, সাইফুদ্দিন ৩/২৭। ফল: কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স ৩২ রানে জয়ী। ম্যাচসেরা : সোহেল তানভীর।

সর্বশেষ সংবাদ